জুয়েল রহমান :
হবিগঞ্জের বানিয়াচং সড়কে এক্সাভেটর(ভেকু)এর সাথে যাত্রীবাহি সিএনজি’র সংঘর্ষে আপন দু’ভাই নিহত ও ৫জন আহত হয়েছেন।
শনিবার(২৫মার্চ)হবিগঞ্জ-
বানিয়াচং সড়কের ভাটিপড়া নামক স্থানে রাত ৮টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দু’ভাই হলেন,বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ছিলাপাঞ্জা গ্রামের মৃত কালাই উল্লার পুত্র আব্দুল মঈন(৭৫) ও তার আপন ছোট্র ভাই তাজ উদ্দিন(৪৫)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়,বানিয়াচং উপজেলার উজিরপুর গ্রামে আপন খালার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নিহত আব্দুল মঈন,ছোট্ট ভাই তাজ উদ্দিন ও দু’জনের স্রী,এক বোন এবং তাজ উদ্দিন মিয়ার ছোট্ট এক ছেলেকে সাথে করে সবাই শেষ দেখা দেখতে যান খালাকে।
সেখানে উজিরপুর স্কুল মাঠে আসরের নামাজের পর দুই ভাই খালার জানাজার নামাজ আদায় করে দাফনের কাজ সম্পন্ন করেন।
এবং খালার বাড়িতে আত্মীয় স্বজনদের সাথে ইফতার করেন।
ইফতারের পর বাড়ির উদ্যেশে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ সড়কের মধ্যেবর্তী স্হান ইমামবাড়ীর এদিকে হবিগঞ্জ আসেন তারা।
হবিগঞ্জ থেকে তাদের পরিচিত ও একই ইউপির পাশের ওয়ার্ডের বাসিন্দা একজন সিএনজি চালকের সিএনজি দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন পরিবারের ৬জন।
এদিকে রত্না ও শুটকি এলাকার মাঝা মাঝি স্হান(ভাটি পাড়া)এলাকায় পৌঁছা মাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা একটি(মাটি কাটার এস্কাভেটর-ভেকু)এর সাথে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে সিএনজি চালকসহ ৭জন আহত হন।
সংঘর্ষের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক ছুটে যান,বানিয়াচং উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা পদ্ম সিংহ,বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)অজয় চন্দ্র দেবসহ একদল পুলিশ ও বানিয়াচং ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট।
সংঘর্ষের এমন ঘটনা দেখে উভয় দিক দিয়ে রাস্তায় চলাচলকারীগনও আহতদের উদ্ধার কাজে সহযোগীতা করেন।
এবং আহতদেরকে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি দিয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন।
এবং গুরতর আহত সিএনজি চালক মোহাম্মদ আলী(৫৫)
(নিহত)তাজ উদ্দিন মিয়ার স্রী ছাবিরা খাতুন(৩৫) ও পুত্র মিশকাত(৪)বোন করিমুন্নেছা(৪০)কে সিলেট প্রেরণ করা হয়েছে।
শুধু(নিহত)আব্দুল মঈন মিয়ার স্রী রিজিয়া খাতুন(৬৫)কে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে শেষ খবর পাওয়া যায়।
এব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)অজয় চন্দ্র দেব এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি দু’টি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।এছাড়া লাশ দু’টি পোস্টমর্টেমের জন্য হাসপাতালে রয়েছে ও কাউকে আটক করা হয়নি বলেও জানাযায়।
এদিকে আহত সিএনজি চালক মোহাম্মদ আলী(৫৫)এর পরিচয় নিশ্চিত করেন তার ইউপি সদস্য।
তিনি উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জাতুকর্ন পাড়ার বাসিন্দা বলে আমাদের জানান ইউপি সদস্য ও বানিয়াচং উপজেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের (সাবেক)সভাপতি মোঃশাহেদ মিয়া।
এছাড়াও তিনি এমন মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে২৫মার্চ (শনিবার)১১টা ৩২মিনিটে এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করেন ইউপি সদস্য তোফাজ্জল মিয়া।
তিনি তার ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডবাসীর পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করে আমাদের জানান,
নিহত আব্দুল মঈন মিয়ার পরিবারে ৬ ছেলে ও ৬ মেয়ে রয়েছে এবং তার ছোট্ট ভাই নিহত তাজ উদ্দিন মিয়ার রয়েছে দুই ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান।
এমন ঘটনার পর যদি এমনটা হয় কারও নিজেদের মধ্যে তাহলে কেমন লাগবে নিজের কাছে,একদিকে নিহতের লাশ রাতভর পড়ে রয়েছে হাসপাতালে পোস্টমর্টেমের জন্য।
অন্যদিকে নিহতের স্রী সন্তান চিকিৎসার যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন হবিগঞ্জ ও সিলেটের হাসপাতালের বেডে।
পরিবারের অন্যান্য লোকজন দৌড়াচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় লাশ গুলো বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য আবার কেউ কেউ দৌড়াচ্ছেন চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সিলেটের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে।
পরিবারের লোকজনের কোন প্রকার অভিযোগ নেই তাই লাশ গুলো পোস্টমর্টেম না করিয়ে তাদের কাছে দেওয়ার জন্য থানায় এসেছেন এবং এবিষয়ে আলাপ আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানান।
পরে রাতে কোন প্রকার সিদ্ধান্ত না হওয়ায় লাশ গুলো আনা সম্ভব হয়নি।
পরে পরিবারে শান্তনা দিতে গিয়ে তাদের কষ্ট দেখে এবং পুরো এলাকাবাসীর নিরবতার কষ্টে তিনি নিজেও স্তব্ধ হয়ে যান।
যাহা ভাষায় কিছু প্রকাশ করে শান্তনা দেওয়ার মতো নয়।
এব্যাপারে সর্বশেষ ২৬মার্চ(রবিবার)সকাল ৮টায় মুঠোফোনে নিহতের পরিবারের লোকজন জানান,আমাদের কোন প্রকার অভিযোগ নেই,তারপরও থানা থেকে আমাদেরকে লাশ গুলো কাটা ছেঁড়া না করে দেওয়া হচ্ছেনা কেন আমরা বুঝতেছিনা।
হাসপাতালে আনার পর থেকে সারাটি রাত হাসপাতালেই পড়ে রয়েছে।
এমন কষ্টের কথা আমরা কার কাছে বলবো বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে লাইনটি কেটে দেন।
সর্বশেষ ২৬মার্চ(রবিবার) সকাল ৮টা ৩২মিনিটে ইউপি সদস্য তোফাজ্জল মিয়া জানান,রাতে হবিগঞ্জ থেকে সার্কেলও এসেছিলেন থানায় কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
হয়তো তাদের কোন আইনী জটিলতা থাকতে পারে।
সকালে যাওয়ার কথা ছিলো তাই তিনি এখন যাচ্ছেন বলেন এবং কি সিদ্ধান্ত হয় পড়ে এটাও জানাবেন বলে জানান।
এমন মৃত্যুর সংবাদে এবং স্রী,সন্তান,বোনের চিকিৎসার আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে পড়ছে এবং সারাটি রাত হাসপাতালের মেঝেতে দু’টি ভাইয়ের লাশ পরে রয়েছে শুনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দে-শ বিদেশে শোক প্রকাশের ঝড় বইছে।
