ক্ষ্মীপুরে এস.এস.সির কেন্দ্র সচিব ও সহকারি সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

শেয়ার

নিজস্ব প্রতিনিধি: চলমান এসএসসি পরীক্ষায় (লক্ষ্মীপুর-০৮) হাজিরপাড়া হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সচিবের পদ মোঃ নুরুল ইসলামকে এবং সহকারি কেন্দ্র সচিবের পদ থেকে দুলাল চন্দ্র মজুমদার সহ দুই জনকে স্বস্ব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দুইজনেই সদর উপজেলার হাজিরপাড়া হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সহকারি প্রধান শিক্ষক বলে জানা গেছে। সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ ও তথ্য গোপন করে একই বিদ্যালয়ের দুজনেই অর্থাৎ প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম এবং সহকারি প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র মজুমদার একই কেন্দ্রের সচিব এবং সহকারি সচিবের দায়িত্ব পালনের অভিযোগ সহ ওই কেন্দ্রেই প্রধান শিক্ষকের ভাগ্নি এবং পার্শ্বের কেন্দ্রে মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যাবস্থা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে শনিবার এসএসসির পরীক্ষা চলাকালে তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুজ্জামান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে জানা যায়, নিজের ছেলে, মেয়ে অথবা পোষ্য বাংলাদেশের ৮টি শিক্ষা বোর্ডের কোথাও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে তিনি কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না মর্মে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। অথচ নিজের মেয়ে পাশ্ববর্তী চৌপল্লী কেডি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং পোষ্য ভাগ্নি নিজ কেন্দ্রে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও হাজিরপাড়া হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম তথ্য গোপন করে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু তাই নয় নিয়মনীতির লংঘন করে প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম একই বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষককে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সহকারি কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব নিয়োজিত রেখেছেন। অথচ ওই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী তার পোষ্য ভাগ্নি বিলকিস আক্তার হাজিরপাড়া হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আর উক্ত কেন্দ্র সচিবের মেয়ে নুসরাত জাহান মাহী পাশ্ববর্তী চৌপল্লী কেডি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। নিজের মেয়ে এবং পোষ্য ভাগ্নি এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ নেয়া অবস্থায় কেন্দ্র সচিব নুরুল ইসলাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন লংঘন করে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালনের ঘটনায় এ নিয়ে পরীক্ষার্থী, অভিবাবক সহ স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুক্রবার এ বিষয়ে স্থানীয় বিভিন্ন অনলাইন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পেলে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ লাখ টাকার বেশী অর্থ আত্নসাৎ সহ অভ্যন্তরীণ অডিট আপত্তির দায়ে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামকে এর আগেই বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়গুলো নজরে আসে প্রশাসনের।

এ ব্যাপারে উক্ত কেন্দ্র সচিব মো. নুরুল ইসলাম জানান, সরকারি এ নিয়মনীতি তার জানা ছিলোনা। তাই তিনি শনিবার লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে কেন্দ্র সচিবের পদ থেকে তিনি অব্যাহতি নিয়েছেন।

পরে এবিষয়ে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুজ্জামানকে তড়িৎ ব্যাবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে কেন্দ্র সচিব ও সহকারি কেন্দ্র সচিব সহ দুই জনকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা সহ আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া কথা জানান এই কর্মকর্তা।

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.