আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
হস্তান্তর না হতেই রামগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ জুড়ে দেখা দিয়ে শত শত ফাটল আর ছাদ চুইয়ে ঝরছে পানি। চরম অব্যবস্থাপনায় নির্মিত মসজিদটির ফাটল গুলোয় পুডিং দিয়ে ঢাকার পচেষ্টায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে নির্মান শ্রমিকরা। অতঃপর রংয়ের ফাইনাল আচঁড় মেরে বুঝিয়ে দেওয়া হবে মসজিদটি। চোখের সামনে ফাটল ঢাকার এমন অপকর্ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যাক্তিগনের দায়হীন দৃষ্টি রামগঞ্জ উপজেলাব্যাপী চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা পিডব্লিউডি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশব্যাপী ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রামগঞ্জ পৌরসভার আঙ্গারপাদা ওয়ার্ডে ৪৩শতক সম্পত্তিতে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যায়ে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে মেসার্স জুভেন্টার্স ইন্টারন্যাশনাল নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মসজিদটির নির্মানকাজ শুরু করে।
শর্ত মোতাবেক নির্মানকাজ শুরুর পরবর্তী ২বছরের মধ্যে মসজিদটি বুঝিয়ে দিতে হবে। কিন্তু দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান লক্ষ্মীপুর পিডব্লিউডির অবহেলায় তা আর হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে ২০২৫ সনের ফেব্রুয়ারীতে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালালে ২৫ ফেব্রুয়ারী মসজিদটির শত শত ফাটলসহ একাধিক ত্রুটি নিয়ে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় সচিত্র প্রতিবেদন। এরপর ওই ফাটল গুলো নতুন আস্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের আগামী আগষ্টে মসজিদটি ফাইনালি ঝুঝিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়।
রোববার (২৭) জুলাই সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় মসজিদ জুড়েই শত শত ফাটল। এসময় ছাদ চুইয়ে পানি ঝরতেও দেখা যায়।
মসজিদের খোলা ছাদে টাইলস স্থাপনের সংযোগে পুডিং না দেওয়ায় পানি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছেন মসজিদের নির্মান কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা লক্ষ্মীপুর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন (সিভিল)। তবে ফাটলের ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুভেন্টার্স ইন্টারন্যাশনালের প্রোফাইটর ইসতিয়াক আহম্মেদ জানান, মসজিদের নির্মান কাজ শেষ হয়েছে ৭মাস পূর্বে।
মসজিদে ফাটলের ব্যাপারে তিনি জানান ওগুলো আস্তরের। যতটুকু সম্বভ আস্তর, পুডিং এবং রং দিয়ে ঠিক করে দেওয়া হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম রবিন শীষ জানান, মডেল মসজিদ পরিপূর্ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা বুঝে নিবো না।
