দখলদার ইসরায়েল ফিলিস্তিনের সাধারণ মুসলমানদের ওপর আগ্রাসন চালাচ্ছে দীর্ঘ প্রায় দুবছর হলো। নীরিহ ফিলিস্তিনিদের হত্যার পর এবার শকুনদের চোখ পড়েছে ইরানে। ইসলাম বিদ্বেষী ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্দেশে সেদেশের সেনারা হামলা চালিয়েছে ইরানে। তেহরানে এবং আশপাশের এলাকায় অবস্থিত ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে দুই শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে তারা। জবাবে ইসরায়েলেও শতাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
দুদেশের মধ্যে এখন লেগে গেছে যুদ্ধের দামামা। এই সংঘাত আরো বৃদ্ধি পেলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞমহল। এই দুই দেশের সামরিক শক্তিমত্তায় কে এগিয়ে ইরান নাকি ইসরায়েল?
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৈন্য সংখ্যার দিক থেকে ইসরাইলের চেয়ে এগিয়ে আছে ইরান। ইরানের নিয়মিত সেনা আছে যেখানে ১১ লাখ ৮০ হাজার সেখানে ইসরাইলের সৈন্য ৬ লাখ ৭০ হাজার। ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের দিক থেকেও ইসরাইলের চেয়ে ঢের এগিয়ে ইরান। ইরানের কাছে মোট ট্যাংক রয়েছে ১৯৯৬ টি, আর ইসরায়েলের কাছে ১৩৭০টি। সাঁজোয়া যান যেখানে ইরানের রয়েছে ৬৫ হাজার ৭৬৫টি এর বিপরীতে ইসরাইলের আছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি। এছাড়া আর্টিলারি সক্ষমতায় এগিয়ে রয়েছে ইরান। তাদের রকেট আর্টিলারি এমএলআরএস এর সংখ্যা ৭৭৫টি এবং সেলফ প্রপেলড আর্টিলারির সংখ্যা ৫৮০টি। অন্যদিকে ইসরাইলের সেফল প্রপেলড আর্টিলারির সংখ্যা ৬৫০টি এবং এমএলআরএস বা রকেট আর্টিলারির সংখ্যা মাত্র ১৫০টি।
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার এর দেওয়া তথ্যমতে, নৌ শক্তিতেও বেশ এগিয়ে রয়েছে ইরান। দেশটির ১০১টি যুদ্ধজাহাজ এর পাশাপাশি ৭টি ফ্রিগেট এবং ২১টি টহল জাহাজ রয়েছে। এর বিপরীতে ইসরাইলের যুদ্ধজাহাজ সংখ্যা ৬৭টি। যার মধ্যে টহল জাহাজ আছে ৪৫টি। আর ইসরাইলের কোনো ফ্রিগেট নেই। সাবমেরিনের দিক থেকেও ইরান ঢের গুন এগিয়ে ইসরায়েলের চেয়ে। ইরানের সাবমেরিন সংখ্যা যেখানে ১৯টি সেখানে ইসরায়েলের কাছে সাবমেরিন আছে মাত্র ৫টি।
এসব ক্ষেত্রে ইরান বেশ এগিয়ে থাকলেও বেশ কিছু জায়গায় পিছিয়ে রয়েছে ইসরায়েলের থেকে। এজন্যই গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইসরাইলের তুলনায় এক ধাপ পিছিয়ে রয়েছে ইরান। এই র্যাংকিংয়ের ১৪৫ দেশের মধ্যে ইরান ১৬তম অবস্থানে আর ইসরাইল ১৫ তম অবস্থানে রয়েছে।
ইসরায়েলের কাছে যেখানে সামরিক বিমান রয়েছে ৬১২টি সেখানে ইরানের কাছে আছে ৫৫১টি। এসবের মধ্যে আবার ইসরয়েলের যুদ্ধবিমান সংখ্যা ২৪১টি আর ইরানের ১৮৬টি। ইরানের মোট ২৩টি অ্যাটাকিং বিমানের বিপরীতে ইসরাইলের আছে ৩৯টি। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের কাছে হেলিকপ্টার আছে ১২৯টি আর ইসরাইলের রয়েছে ১৪৬টি। আর অ্যাটাকিং হেলিকপ্টারের দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে ইসরায়েল, তাদের ৪৮টি অ্যাটাকিং হেলিকপ্টার এর বিপরীতে ইরানের রয়েছে মাত্র ১৩টি।
এদিকে বিশ্বের পারমনবিক শক্তিধর দেশের তালিকায় ইসরায়েলের নাম থাকলেও ইরানের নাম সেভাবে প্রকাশ্যে ছিলো না কখনোই। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার দাবি করেছে যে ইরান তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। আর গ্লোবার ফায়ার পাওয়ার এর দেওয়া তথ্যমতে, তারা যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তাতে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বিবেচনায় আনা হয়নি।
