যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আজ শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে দেশজুড়ে পালিত হবে শবে বরাত। হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিকে মুসলমানদের কাছে “সৌভাগ্যের রজনী” হিসেবে সমাদৃত। শবে বরাত রমজানের আগমনী বার্তা দেয়।
ফারসি শব্দ “শব” অর্থ রাত আর “বরাত” মানে সৌভাগ্য। আরবিতে বলা হয় “লাইলাতুল বরাত”, অর্থাৎ সৌভাগ্যের রাত। এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় নফল নামাজ পড়েন, কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং জিকিরে মগ্ন থাকেন। অতীতের পাপ-অন্যায়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন তারা।
মুসলমানদের বিশ্বাস, মহিমান্বিত এই রাতে মহান আল্লাহতায়ালা মানুষের ভাগ্য অর্থাৎ তার নতুন বছরের “রিজিক” নির্ধারণ করে থাকেন। এই রাতে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করা হয়।
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বাড়িতে বাড়িতে হরেক রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ উপাদেয় খাবার তৈরি করার প্রচলন রয়েছে। এসব খাবার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যার পর অনেকে কবরস্থানে যান আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করতে।
এ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
এবার শবে বরাতে আতশবাজি, পটকাবাজি নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, শবে বরাতের পবিত্রতা রক্ষার্থে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি, পটকাবাজি, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
