বাংলায় একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে—‘ব্যবহারে বংশের পরিচয়’। অর্থাৎ একজন মানুষের আচার-ব্যবহার, চালচলন ও কথাবার্তায় বোঝা যায় সে কেমন ঘরের সন্তান। পরিবারের শিক্ষাদীক্ষা কেমন পেয়েছে। তার আচরণ প্রশংসনীয় হলে ভালো ঘরের সন্তান ধরা হয়, আর মন্দ হলে ছোটলোক বলা হয়।
মহানবী (সা.) ছিলেন মানবজাতির শিক্ষকস্বরূপ। তাই আমাদের উচিত নবীজির আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে উত্তম মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। নিজের ক্রোধ দমন করে যে ব্যক্তি ভালো ব্যবহার করে সে-ই প্রকৃত ভালো মানুষ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর (তারাই মুত্তাকি) যারা ক্রোধ দমন করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে।
অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলের পাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কিছু নেই। আর আল্লাহ তাআলা নোংরা ও অশ্লীলভাষীকে ঘৃণা করেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৯৯)
এই হাদিসে মন্দ স্বভাবের ক্ষতিও উল্লেখ করা হয়েছে। যদি কেউ শুধু মন্দ কথাও বলে, তাকেও আল্লাহ ঘৃণা করেন। আর আল্লাহ যাকে ঘৃণা করবেন, সে পরকালে মুক্তি এবং জান্নাতে যাওয়ার আশা করবে কিভাবে? সচ্চরিত্রের ফজিলতের ক্ষেত্রেও এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর, সে সবচেয়ে উত্তম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৫৯)
পরিশেষে একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের উত্তম গুণাবলি ও সদাচরণের অধিকারী হওয়া জরুরি। মহান আল্লাহ আমাদের এই গুণ অর্জন করার তাওফিক দান করুন।
