শাপলা,কাঁঠাল, ইলিশ, দোয়েল রাষ্ট্রীয় ভাবে জাতীয় হিসেবে স্বীকৃত তবে নজরুল কেন নয় ?
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম উচ্চারণ করলেও প্রকৃত অর্থে দু:খজনক হলেও সত্য যে, সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক দলিলপত্রে জাতীয় কবি হিসেবে তাঁর নাম নেই! স্বাধীনতা ৫৪ বছর পরও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ হিসাবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ না করা সরকারের চরম ব্যার্থতা। অথচ শাপলা,কাঁঠাল, ইলিশ,দোয়েল পাখি রাষ্ট্রীয় ভাবে জাতীয় হিসেবে স্বীকৃত তবে নজরুল কেন নয়? দাবি করলেন অনলাইন জগতের চট্টগ্রাম জেলার সনামধন্য চট্টগ্রাম সাহিত্য কুটির ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও চিকিৎসক লেখক জসিম উদ্দীন মাহমুদ তালুকদার।
১৭ আগস্ট ২০২৩ ইং তারিখে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, জাতীয় পর্যায়ে ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আয়োজনে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি হিসেবে লেখা হলেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, জাতীয় আর্কাইভ, নজরুল ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির কোথাও নজরুলকে জাতীয় কবি ঘোষণা করা সংক্রান্ত সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন বা অন্য কোনো দলিল পাওয়া যায়নি। যা জাতি হিসাবে অত্যান্ত লজ্জাজনক। লোকমুখে প্রচারিত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি, কাগজে-কলমে প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নন।
তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তাঁকে জাতীয় কবি হিসেবে উল্লেখও করা হয়। কিন্তু সবই পরোক্ষ স্বীকৃতি। এমন স্বীকৃতি কালের পরিবর্তনে মুছে যেতে পারে। আগামীর প্রজন্ম একদিন হয়তো না-ও জানতে পারে যে, আমাদের জাতীয় কবির নাম কাজী নজরুল ইসলাম।
আমাদের জাতীয় প্রেরণার উৎস কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালীদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তিনি আমাদের রেনেসার অগ্রদূত ও ঐতিহ্যের রুপকার। তিনি আমাদের ইতিহাসের অংশ। ইতিহাস ও জাতীয় স্বীকৃতি কখনো অলিখিত থাকতে পারে না। অলিখিত ইতিহাস ও তথ্য সময়ের বিবর্তনে বিলিন হয়ে যায়।
অবিলম্বে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ হিসাবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি চট্টগ্রাম সাহিত্য কুটিরের পক্ষ থেকে জসিম উদ্দীন মাহমুদ তালুকদার জোর দাবী জানিয়ে আরো বলেন,
কাজী নজরুল আমাদের জাতিসত্তার অন্যতম রুপকার। স্বাধীনতার পথিকৃত, সামনে চলার প্রেরণা। যার রচনা আমাদের পথ দেখায়, অনাচার-অত্যাচার, জুলুম-পীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হতে আহ্বান জানায়।
কাজী নজরুল ইসলামের যাদুময় প্রেরণা থেকে বঞ্চিত হলে আমরা মনের আজান্তেই সমস্ত অর্জনকে বিসর্জন দিয়ে কাঙাল হয়ে পড়বো আমরা। যারা কাঙাল হতে আগ্রহী কিংবা বাঙাল সেজে পরের দুয়ারে ভিখ মাগে তাদের কথা আলাদা। আমরা চাই জনম জনম ধরে কবি নজরুলের কীর্তির পরশ নিয়ে ধন্য হতে।
যে কবির অগ্নি ঝলসিত বাণী , যার বন্ধন অসহিষ্ণু চিত্তে আগ্নেয় দূর্দমতা, অনিরুদ্ধ যৌবন শক্তির গীতিময় প্রকাশ,বাংলার জাতীয় কবি, বিদ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম কে জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি চাই।”
উল্লেখ্য, বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে এই প্রথম চট্টগ্রাম সাহিত্য কুটির ও পাঠাগার সাহিত্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম কে জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানালো।
চট্টগ্রাম সাহিত্য কুটির এর পক্ষে : জসিম উদ্দীন মাহমুদ তালুকদার
চিকিৎসক ও লেখক,
প্রতিষ্ঠাতা , চট্টগ্রাম সাহিত্য কুটির।
