বিশ্বকাপের ফাইনাল যেন অধরা স্বপ্নের মতো। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে আজ এক ইতিহাস রচনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালের উঠেছে প্রোটিয়ারা। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কেপটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নামে প্রোটিয়ারা।
দুই ওপেনার লরা উলভার্ট ও তাজমিন ব্রিটসের অর্ধশতকে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ১৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ রানে হেরে যায় ইংলিশরা।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখা দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট হাতে নিজেদের কাজটা ঠিকই করেছিল। তবে বল হাতে ইনিংসের শুরুতেই ছন্নছাড়া ছিল প্রোটিয়ারা। ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় ইংল্যান্ড। পাওয়ার প্লের প্রথম ৫ ওভারেই বিনা উইকেটে দলীয় অর্ধশতক পূরণ করে ন্যাট স্কিভারের দল।
তবে স্বাগতিকদের পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ম্যাচ ফেরায় পেসার সাবনিম ইসমাইল। এক ওভারে দুই ইংলিশ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান এই ডানহাতি পেসার। মিডেল ওভারে ইংলিশ অধিনায়ক হিদার নাইট ও ন্যাট স্কিভারের ব্যাটে জয়ের ভীত পেয়ে যায় লায়নসরা।
কিন্তু স্বাগতিক পেসার আয়াবুঙ্গা খাখার বোলিং তোপে ১৫৮ রানে থামে ইংল্যান্ডের ইনিংস। ২৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করে নিজ দেশের নয়া ইতিহাস রচনা করেন এই ডানহাতি পেসার। আর তাতেই ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে লরা উলভার্ট ও তাজমিন ব্রিটসের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৪তম ওভারে ওপেনার উলভার্ট নিজের অর্ধশতক পূরণ করে ফিরে গেলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন আরেক ওপেনার ব্রিটস।
ইংলিশ বোলারদের উপর রীতিমত চড়াও হন এই ডানহাতি ব্যাটার। ৬ চার ও দুই ছয়ে খেলেন ৫৫ বলে ৬৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। শেষদিকে মারিজান কাপের ১৩ বলে ২৭ রানের ক্যামিওতে ১৬৪ রানের বড় পুঁজি পায় সুনে লুইসের দল।
পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের বিশ্বকাপে এই প্রথমবার ফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। রবিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মিশনে নামবে প্রোটিয়ারা।
