ফিনিশিং পর্যায়ে আরও এক ধাপ এগিয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ। এবার প্রথম ইউনিটের ‘ট্রান্সপোর্ট গেটওয়ে’ চুল্লিতে স্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আনা হয়েছে। যার ওজন ২৭৫ টন।
যেটা চুল্লির সবচেয়ে ওপরের অংশে ‘ঢাকনা বা দরজা’ হিসেবে কাজ করবে। এই গেটওয়ে স্থাপনের পর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হবে বলে বাংলাদেশ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা অলক চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেন, ২৭৫ টন ওজনের প্রকাণ্ড এই ধাতবখণ্ডটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী, নকশার সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলোর ‘ইনসপেকশন’ শেষে এটি চুল্লির ওপর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপক ওয়াজিহুর রহমান বলেন, এটা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লির গেটওয়ে বা ঢাকনা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যান্য যন্ত্রপাতির মতোই এটা নদীপথে কেন্দ্রের পাশে জেটিতে এসেছে। সেখান থেকে ক্রেন ও ভেহিকলের সাহায্যে চুল্লির কাছে এনে রাখা হয়েছে। এই গেটওয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ জানিয়ে তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যে চুল্লি বানানো হয়েছে, তার ভেতর জ্বালানি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপনের একটি পথ রাখা হয়েছিল। এই ঢাকনা বা গেটওয়েটি দিয়ে সেই পথ বন্ধ করা হবে। ২৭৫ টন ওজনের এই গেটওয়েটি বায়ু প্রতিরোধী (এয়ারটাইট) করে স্থাপন করা হবে।
এরই মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ৯০ শতাংশ কাজ শেষে হচ্ছে। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে পাবনার রূপপুরে। সেখানে দুটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট করে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এই নির্মাণ ব্যয়ের ১০ শতাংশের অর্থায়ন করছে সরকার, বাকি ৯০ শতাংশ রাশিয়া ঋণ হিসাবে দিচ্ছে।
