Md. Hasibuzzaman Tipu, Staff Reporter:
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে ও তাদের প্রতিভা বিকাশে পাশে দাঁড়িয়েছেন চিত্রশিল্পী মেহেদী হাসান হিমু। খুলনায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাম ফর আনপ্রিভিলেজড চাইল্ড (সিইউসি)-এর উদ্যোগে পরিচালিত সিইউসি স্কুলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিজ হাতে ছবি আঁকার ক্লাস পরিচালনা করেন।
গত ৪ অক্টোবর বিকেলে সিইউসি স্কুলে গিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটান চিত্রশিল্পী মেহেদী হাসান হিমু। এ সময় সিইউসি সংগঠনের প্রচার সম্পাদক ও চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস অতিথিকে স্বাগত জানান এবং ছবি আঁকার ক্লাসের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেন।
দীর্ঘদিন ধরে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সিইউসি। সংগঠনটির উদ্যোগে পরিচালিত সিইউসি স্কুলে শিশুদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসও গত দুই বছর ধরে শিশুদের বিনা বেতনে ছবি আঁকার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। প্রতি রবিবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সিইউসি স্কুলে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন ছবি আঁকার ক্লাসে শিশুদের সঙ্গে মিশে যান মেহেদী হাসান হিমু। শিশুদের আঁকা ছবি ও সৃজনশীলতা দেখে তিনি তাদের উৎসাহ দেন এবং প্রতিভার প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে আবারও সিইউসি স্কুলে এসে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ক্লাস শেষে সিইউসি স্কুলের শিক্ষার্থী ফাল্গুনী আক্তার তোহা একটি গজল পরিবেশন করে অতিথিকে মুগ্ধ করে। পরে চিত্রশিল্পী মেহেদী হাসান হিমু স্কুলের সকল শিক্ষার্থীর হাতে টিফিন তুলে দেন। এতে শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীরা অতিথিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আবারও স্কুলে এসে তাদের উৎসাহিত করার আমন্ত্রণ জানায়।
বিশেষ কারণে সেদিন সিইউসি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সংগঠনের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন না। তবে শিক্ষিকা ঝর্না আক্তার ও মোঃ দুলাল উপস্থিত ছিলেন । তাঁদের উপস্থিতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা অতিথিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সিইউসি স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে সংগঠনটি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন নেই—প্রয়োজন একটু ভালোবাসা, উৎসাহ ও সহযোগিতা। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও শিক্ষা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।
