Jubo League leader's case ’excess rent failed in business shop looted business shop looted

shear

শাহরিয়ার কামাল, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) :

কমলনগরের স্থানীয় এক মুদি দোকানদার থেকে নির্ধারিত রেটের বাহিরে অতিরিক্ত ৩০ টাকা খাজনা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে গভীর রাতে ওই ব্যবসায়ীর দোকানঘর ভাংচুর-লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে বাজার সাব-ইজারাদারের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আমিন উল্লাহ (৭০) বাদি হয়ে উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারের সাব-ইজারাদার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবুল কাশেম সহ পাঁচজনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

রবিবার আদালতের বিচারক ভিক্টোরিয়া চাকমা মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। বাদির আইনজীবি মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তোরাবগঞ্জ বাজার নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দা আলী আহাম্মদের ছেলে মো.আমিন উল্লাহ (৭০) কাঁচা বাজারের গলির মুখে দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে মুদি মনোহরি মালের ব্যবসা করে আসছে। গত রবিবার শুধুমাত্র হাটের দিনের জন্য নির্ধারিত খাজনার ১৮০ টাকারস্থলে আরও ৩০ টাকা অতিরিক্ত দাবি করে ইজারাদার আবুল কাশেম। বাড়তি ৩০ টাকা না দেয়ায় দোকান মালিক আমিন উল্লাহর সাথে ইজারাদার কাশেমের সংঙ্গে সামান্য কথাকাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে ঘটনার দুইদিন পর গত গত মঙ্গলবার গভীর রাতে আবুল কাশেম তার অন্য সহযোগী মো. শরীফ,আবু কালাম, মো. আরিফ ও মো. কামাল মিলে ব্যবসায়ী আমিন উল্লাহর দোকানঘরের মালামাল, নগদ টাকা ও দোকানের হিসাব সংরক্ষনের চারটি টালি খাতা লুট করে নিয়ে যায়। এবং দোকানঘরটি ভেঙ্গে দুরবর্তী নির্জনস্থানে পেলে দেয়। এতে আমিন উল্লার পক্ষে কাস্টমার থেকে পাওনা দীর্ঘ ৪০ বছরের বাকীতে থাকা প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি দোকানে থাকা বিভিন্ন ধরনের মুদি-মনোহরির ৪ লাখ টাকার মালামাল, ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ ৫৫ হাজার টাকা সহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

মামলার বাদি এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ইজারাদার কাশেম দোকানঘরটি উচ্ছেদ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রাতারাতি শরীফ নামের এক ব্যক্তিকে সেখানে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ করে দেন। সকালে এসে তিনি দেখতে পান ওখানে শরীফ দোকানদারি করছে। অন্যদিকে তার দোকানটি ধুমড়ে মুছড়ে অন্যত্র পেলে রাখা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে এমনটাই দেখা গেছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ইজারাদার শাহ আলম ১৪৩০ বাংলা সনের জন্য (এক বছর) চুক্তিতে ৮৮ লাখ টাকায় তোরাবগঞ্জ বাজারটি ইজারা নেন। তার থেকে কাঁচাবাজারটি (তরিতরকারি বেচাকেনার জন্য নির্ধারিত)) ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সাব-ইজারা নেন চর লরেন্স ইউনিয়নের এক নস্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় আলী হোসেনের ছেলে মো. আবুল কাশেম। তরকারি বাজারের ওই গলির দুইপাশে মাচা পেতে গড়ে ওঠা দোকানপ্রতি দৈনিক ৬০ টাকা এবং সাপ্তাহিক দুই হাটের দিন দোকানপ্রতি ৩৬০ টাকা হারে চাঁদার রেট করে তা নিয়মিত আদায় করে আসছে সাব-ইজারাদার কাশেম। তবে ওই কাচাঁবাজারে নিয়মিত ৪৩টি দোকান মাঁচা পেতে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা আলাদা গোডাউন । এছাড়া হাটের দিন ওখানে প্রায় ১৮০-২০০ জন ভ্রাম্মমান ব্যাবসায়ী একই নিয়মে তাকে চাঁদা দিতে হয় বলে জানান সেখানকার ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ রয়েছে, একইভাবে হাঁস-মুরগি বাজার,কবুতর বাজার, দুধ বাজার, স্বর্ণকার গল্লি, পানহাটা, পণ্যবাহী গাড়ি লোড-আনলোড, মেইন রোডে ভ্রাম্মমান নার্সারি বনজ ও ফলজ গাছের চাড়া,মওসুমের ফল কাঠাল বাজারসহ একাধিক ব্যক্তি বাজারটি সাব-ইজারা নিয়ে বছরে কোটি টাকার বাণিজ্যের টার্গেটে গলা কাটা টোল আদায়ে মেতে উঠেছেন।

সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, হাটে প্রতিটি গরু বিক্রিতে সরকার নির্ধারিত টোল ১২২ টাকার বিপরীতে আদায় করা হচ্ছে ৮০০ থেকে হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিটি ছাগলে ৫০ টাকার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। আবার প্রতিটি গরু ক্রেতা থেকে সরকার নির্ধারিত টোল ১২২ টাকার বিপরীতে আদায় করা হচ্ছে ৮০০ থেকে হাজার টাকা। বিক্রেতা থেকে ৩০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা নিয়মে পরিণত হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য, হাঁস, মুরগি, কবুতর ও বিভিন্ন পণ্য বেচা-কেনায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টোল আদায় করা হচ্ছে। এসব টোল আদায়ে সবক্ষেত্রে রসিদ প্রদান করার নীতিমালা থাকলেও কেবল গরু ও ছাগলের ক্ষেত্রে রসিদ প্রদান করা হয়। তবে এসব রসিদে টোল আদায়ের টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয় না।এছাড়া হাটের দিন সরেজমিন ঘুরে কোথাও টোল আদায়ের সরকারি কোনো মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাটের হাসিল (রসিদ) লেখক বলেন, ইজারাদার যেভাবে নির্দেশনা দেন আমরা সেভাবেই কাজ করি। আদায়কৃত টাকার পরিমাণ রসিদে লিখছেন না কেন প্রশ্নের জবাবে বলেন, সেটি লেখা নিষেধ আছে। আর ওই রসিদে টোলের পরিমাণ লেখার ঘরও নেই।

কাঠাল ব্যবসায়ী মো. রনি জানান, ২শ টাকা খাজনা দেয়ার চুক্তিতে দোকান বসানোর জায়গা পেয়েছেন তিনি। একইভাবে কাঁঠাল ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, কোনো কোনো হাটের দিন ৬শ থেকে ৮শ টাকা পর্যন্ত খাজনা দিতে হয় তাকে।

হাটে উপস্থিত গরু ব্যাপারী হানিফ বলেন, প্রতিটি গরু ক্রয়ে হাট ইজারাদারকে ৭শ টাকা করে টোল দিতে হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-ইজারাদার আবুল কাশেম নিজেকে প্রভাবশালী এক নেতার লোক দাবি করে বলেন, কাঁচাবাজারটি তিনি ইজারা নেননি। ইজারাদার শাহ আলম বেপারির হয়ে খাজনা আদায় করেন শুধু। বিনিময়ে দৈনিক ৫০০ টাকা করে বেতন পান। অন্যদিকে আমিন উল্লাহ কয়েক দিনের খাজনা আটকে দেয়ার কারণে তার দোকানটি সরিয়ে শরীফ নামের একজনকে সেখানে দোকান করার সুযোগ করে দেয়ার কথা স্বীকার করেন।

এসময় প্রতিবেদকের সাথে দেখা করার প্রস্তাবে নিউজ না করার অনুরোধ করেন তিনি।

এ বিষয়ে তোরাবগঞ্জ হাটের ইজারাদার শাহ আলম বেপারি থেকে মোবাইলে অতিরিক্ত টোল আদায়সহ অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্যান্য হাটের তুলনায় আমরা কম নিচ্ছি। এরপরেও প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা পেলে সেভাবে কাজ করব।

তোরাবগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মীর্জা আশ্রাফুজ্জামান রাসেল বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কাশেমকে আগের যায়গায় আমিন উল্লাহর দোকান বসিয়ে দিতে বলা হয়েছে। তার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পরে বসে সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, সরকারি ধার্যকৃত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে বাজার সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related News

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.