A two-day training was held at Tajumuddin in Sushilan's Ajtjan.

shear

 

Rubel Chakraborty, Bhola representative.

ভোলার তজুমদ্দিনে কিশোর-কিশোরী, সাংস্কৃতিক ও তরুণ পিয়ার লিডারদের নেতৃত্বের দক্ষতা, জীবনদক্ষতা এবং সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন  বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ও বুধবার (৬ ও ৭ অক্টোবর)তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কক্ষে ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন-এর  আয়োজনে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কল্যাণে সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন প্রোগ্রাম এর আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
এতে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য, কমিউনিটি হাবের সদস্য, সাংস্কৃতিক কর্মী, স্থানীয় যুব ও পিয়ার লিডাররা অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল কিশোর-কিশোরী ও  তরুণদের জ্ঞান, জীবনদক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও কমিউনিটিতে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলা।

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট, সামাজিক জবাবদিহিতা, জীবনদক্ষতা, নেতৃত্বের বিকাশ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সাইবারবুলিং  প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষণকে অংশগ্রহণমূলক করতে দলীয় কাজ, মুক্ত আলোচনা, উপস্থাপনা, প্রশ্নোত্তর, পরিস্থিতিভিত্তিক অনুশীলন ও বিভিন্ন ব্যবহারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

প্রশিক্ষণে ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুশীলনের ভোলা জেলার সামাজিক ও আচরণ  পরিবর্তন (SBC) প্রোগ্রামের ট্রেনিং অ্যান্ড মনিটরিং অফিসার মারুফা সুলতানা এবং কমিউনিটি মবিলাইজার হাফিজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাঁরা কৈশোরকালের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত ও মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, ইতিবাচক আচরণ, কার্যকর যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা সমাধান এবং নেতৃত্বের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রশিক্ষণে অনলাইন নিরাপত্তা ও সাইবারবুলিং বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, অনলাইন হয়রানি থেকে নিরাপদ থাকা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সেবা গ্রহণের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে Quarterly Action Plan (ত্রৈমাসিক কর্মপরিকল্পনা) প্রণয়ন। দলীয় কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় আগামী তিন মাসে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, তার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করেন। এতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ইতিবাচক আচরণে উদ্বুদ্ধ করার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় তরুণদের শুধু সচেতনতার গ্রহীতা নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পিয়ার লিডারদের নিজ নিজ এলাকায় সহপাঠী ও অন্যান্য কিশোর-কিশোরীদের সচেতন করা এবং ইতিবাচক আচরণে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা তারা নিজেদের জীবনে প্রয়োগের পাশাপাশি বন্ধু, সহপাঠী, পরিবার ও কমিউনিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ইতিবাচক জীবনযাপন বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আয়োজকরা বলেন, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও কমিউনিটিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।  প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দিতে অংশগ্রহণকারীদের তৈরি ত্রৈমাসিক কর্মপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগ কিশোর-কিশোরীদের কল্যাণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।

Related News

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.