Kamrul Hasan Hridat:
লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি ঘোষণার পরই পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত জেলা কমিটির তালিকা গতকাল রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ হলে রাতেই সেই পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন বেশ কয়েকজনেই।
আজ সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের ২৮জন সাধারণ শিক্ষার্থী পদত্যাগ করে এবং ঘোষিত এই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।
যারা পদত্যাগ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম আসাদ, যুগ্ম সদস্য সচিব মেহেদী হাসান নিরব, মেহেদী হাসান হাসিব ও মতিউর আরিফ। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী হাসিব গাজী, মেহেদী হাসান নিরব, নেওয়াজুল ইসলাম, তাওহীদুল ইসলামসহ ২৮জনের পদত্যাগ ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গতকাল রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত ২৩৬ সদস্য বিশিষ্ট লক্ষ্মীপুরে জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটিতে মো. আরমান হোসাইনকে আহ্বায়ক, শাহেদুর রহমান রাফিকে সদস্য সচিব ও মো. বায়েজীদ হোসাইনকে মুখ্য সংগঠক করা হয়। নবগঠিত এ কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা জানান, বহিরাগতদের দিয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উক্ত কমিটির আহ্বায়কের বাড়ি নোয়াখালী। তাকে বাদ দিতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে আহ্বায়ক ঘোষণা করতে হবে। এছাড়াও পদত্যাগকারীদের অনেকেই দাবি করেছেন, যারা আন্দোলনে কোনো ভূমিকা রাখেনি তাদেরকে তদবিরের মাধ্যমে নেতা বানানো হয়েছে। অপর দিকে অনেকেই আন্দোলনের শুরু থেকে কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেও কোনো সম্মানজনক পদ দেওয়া হয়নি। বৈষম্যবিরোধী কমিটিতেও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন অনেকে। তাই তারা ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করেছেন।
সদ্য ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক আরমান হোসাইন বলেন, পদত্যাগকারীদের ব্যাপারে আপাতত কোনো কিছুই বলার নেই। এ নিয়ে পরবর্তীতে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিবো।
