Laxmipur doctor wife torture

shear

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উম্মে জয়নাব পিয়ালকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এতে তামিম মুনতাসিরকে তালাক দেওয়ার জন্য লক্ষ্মীপুর আদালতে আবেদন করেন পিয়াল। এ খবরে তামিম ক্ষিপ্ত হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আদালতে একটি হয়রানিমূলক মামলাও করেছেন।

শুক্রবার (২৪ মার্চ) ভূক্তভোগী পিয়াল সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

অভিযুক্ত তামিম মুনতাসির লক্ষ্মীপুর সদরের চরশাহী ইউনিয়নের রূপাচরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। তিনি রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামের সাইফ উল্যার ছেলে।

ভূক্তভোগী পিয়াল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সমসেরাবাদ এলাকার (সদর হাসপাতাল সংলগ্ন) ঠিকাদার আবুল কালাম মো. সালেহের মেয়ে।

পিয়াল ও তার বাবা আবুল কালাম মো. সালেহ জানান, ২০১৯ সালে বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তামিমের সঙ্গে পিয়ালের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একই বছর ডিসেম্বরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এর কয়েক দিনের মধ্যে তামিম পিয়ালের সঙ্গে অশোভনীয় আচরণ শুরু করেন। এতে তাদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। তাদের সংসারে জাইন আমরিন নামে দুই বছর ৪ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। সন্তান জন্মের আট মাস পর্যন্ত তিনি শিশুটিকে দেখতে আসেননি। ২০২২ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে তামিম-পিয়াল কুমিল্লায় পেশাগত প্রশিক্ষণে ছিলেন। সেখানেও তাকে (পিয়াল) প্রায়ই মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

এদিকে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে পেশাগত উচ্চ শিক্ষার (এফসিপিএস) জন্য পিয়াল জেলা সিভিল সার্জনের কাছে আবেদনের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রশিক্ষণের অনুমতি নেয়। সেই সূত্রে তিনি হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট সাইফুল ইসলাম শরীফের কাছ থেকে সার্জারি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন । তামিম নিজেই শরীফের সঙ্গে পিয়ালের পরিচয় করিয়ে দেন। এক বছর ধরে শরীফের কাছেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন পিয়াল। এর মধ্যে তামিম ও পিয়ালের সংসারে আরও কলহ সৃষ্টি হয়। ভরণপোষণ না নেওয়া, স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ না রাখাসহ বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করায় পিয়াল তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তামিম নিজেই সিনিয়র চিকিৎসক শরীফের সরনাপন্ন হন । চিকিৎসক শরীফকে অনুরোধ করেন, অভিভাবক হিসেবে তাদের কলহ সমাধান করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু দুজনকে নিয়ে বসেও কোনো সুরাহা হয়নি।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলা ও জজ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে নোটারি পাবলিক করে তামিমকে তালাকের আবেদন করেন পিয়াল। এরপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তামিম। পরে ১৯ মার্চ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চল (রায়পুর) আদালতে তামিম বাদী হয়ে পিয়াল ও চিকিৎসক শরীফের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক আছে উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ৬ এপ্রিল অভিযুক্তদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

চিকিৎসক উম্মে জয়নাব পিয়াল বলেন, চিকিৎসক শরীফ আমার প্রশিক্ষক। তার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের দিকে এগুচ্ছি। এ বিষয়টা তামিমের সহ্য হচ্ছিল না। উচ্চ শিক্ষা নিয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক হই তা তামিম প্রত্যাশা করছে না। তাই তালাক দেওয়ার জন্য আবেদন ক রায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘটনা উপস্থাপন করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করে । এতে চিকিৎসক শরীফকে জড়িয়ে মিথ্যা ঘটনা উপস্থাপন করে আমাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সদর হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট সাইফুল ইসলাম শরীফ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি এবং সিভিল সার্জনের কাছে আবেদনের মাধ্যমে পিয়াল আমার প্রশিক্ষণার্থী (এফসিপিএস) ছিল। এতে তার পেশাগত দায়িত্ব ও প্রশিক্ষণের স্বার্থে তিনি আমার সঙ্গে কাজ করতেন। অপারেশন থিয়েটারেও আমার সঙ্গে থাকতেন। তার কাজ, শিক্ষা ও দক্ষতার ভিত্তিতে তাকে সনদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তামিম-পিয়াল দম্পতির ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে এখন আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ঘটনা রটানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।

তামিম মুনতাসির বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট। তাকে (স্ত্রী) ভুল বুঝিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ডাক্তার সাইফুল শরিফ আমাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করিয়েছে। রাত-বিরাতে রোগীর কথা বলে আমাকে না জানিয়ে তাকে নিয়ে যেত। এজন্য আমি আদালতে মামলা করেছি।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন (সিএস) আহাম্মদ কবীর বলেন, তামিমের অভিযোগ সত্য মনে হচ্ছে না। শরীফ প্রশিক্ষক হিসেবে পিয়ালকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এছাড়া তামিম-পিয়ালের পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে জানার পরে তাদের সদর হাসপাতালের প্রশিক্ষণ থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

Related News

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.