Paddy drowned in rain water in Ramgati, helpless farmer's dream is dusty

shear

Delotar Hossain, Ramgati:-

টানা বৃষ্টির পানিতে ভাসছে পাকাঁ ধান, হতাশায় দিন কাটছে এখানকার খেটে খাওয়া দিনমজুর কৃষকদের।
মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর ) বিকেলে রামগতির চর পোড়াগাছা গ্রামের একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন।
তিনি জানান, এবার ১৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছিলেন।
৫ বিঘার ধান ঘরে তুলেছেন। ১০ বিঘার পাকা ধান কেটে ক্ষেতেই রোদে শুকাতে দিয়েছিলেন।
কিন্তু শনিবার থেকে শুরু হলো বৃষ্টি। এখন ক্ষেতে হাঁটুপানি জমেছে।
ভাসছে কাটা ধান।
এমন অবস্থায় শ্রমিকও পাচ্ছেন না তিনি। এদিকে আলেকজান্ডার এলাকার এক কৃষক জানান, এখন বিপদে আছেন অনেক কৃষক। অনেকে জমিতে এবার ধান করেছিলো। ধান কাটাও হয়েছে। কিন্তু ধান বাড়িতে আনতে পারেননি। ক্ষেতে পানি জমে কাটা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ধান ঘরে তুলেছেন কেউ বা তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন সময়ে এ দুর্ভোগে পড়ে হতাশ রামগতি কমলনগর উপজেলার কৃষকেরা।
বৃষ্টিপাতে তলিয়ে যাওয়া মাঠের ধান নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকেরা। পৌষের ঝড়ো বৃষ্টিতে ক্ষেতের ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এরপর আবার ভারী বর্ষণ হওয়ায় ক্ষেতগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে শ্রমিককে অতিরিক্ত মজুরি দিতে হচ্ছে অনেককে। ভেজা ধান শুকানো নিয়েও রয়েছে বেশ দুর্ভোগ। কয়েক মাস পরিশ্রম আর বিনিয়োগের ফল ঘরে তোলার সময়ে এমন দুর্দশায় পড়তে হয়েছে কৃষকদের। একদিকে শ্রমিক সংকট, অপরদিকে ধান কেটে বাড়ি আনতে তিনগুণ পরিশ্রমের পরও সোনালি ফসল ঘরে তুলতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারও কৃষককে। বৃষ্টি শুরুর আগেই যাদের ধান কাটা শেষ হয়েছে তাদের অনেকেই ধান শুকাতে পারেনি। ফলে নষ্ট হয়ে গেছে ধান। আলেকজান্ডার সবুজ গ্রামের এক কৃষক বলেন, বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার আমন ধান তলিয়ে গেছে। এতে কষ্টের ফলস তোলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান।
এই উপজেলার চর আব্দুল্লাহ ইউনিয়নের একজন কৃষক জানান, গত ২/৩দিনের বৃষ্টিতে পাকা ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মাছের ঘেরের জমিতে সবচেয়ে বেশি পানি জমে আছে বলেও জানান কৃষকরা।
এদিকে প্রান্তিক চাষিরা তাদের দাদন ব্যবসায়ী মহাজনদের দাদনের ধান ও সুদের চিন্তায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কারণ, বেশিরভাগ প্রান্তিক চাষি স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে মৌসুমের শুরুতে দাদন নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু এখন ধান ঘরে তুলতে না পারায় উভয় সংকটে পড়েছেন কৃষকরা।
রামগতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ জানান, বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা কিংবা আংশিক পানিতে থাকা ধান ক্ষেতের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে কাটা ধান সংরক্ষন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করি কৃষকরা উপকৃত হবেন।
রামগতি উপজেলায় প্রায় ২৬ হাজার৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায়৫০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে জানান ঐ কর্মকর্তা।

ভালো ফলন হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা আরো জানান, সময় মত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া, সার ও বীজ সরবরাহ করায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশানুরুপ ফলন হয়েছে। এ বছর প্রায় ছয় শতাধিক কৃষকের মাঝে হাইব্রীড এবং উপশী জাতের ধানবীজ বিতরন করা হয়েছে ।

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.