Rubel Chakraborty, Bhola.
য়া দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা – পুরোহিতের মন্ত্রপাঠে চোখ বন্ধ করে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে শত শত ভক্ত। হাতে ফুল-বেলপাতা, মনে ভক্তি আর প্রার্থনা। আজ মহাষ্টমী, বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় উৎসবের সবচেয়ে বড় দিন। আর সেই অষ্টমীর সকালেই পুষ্পাঞ্জলি দিতে তজুমদ্দিনের ১৫টি পূজা মণ্ডপে নেমেছে ভক্তের ঢল।
সকাল ৮টা থেকেই উপজেলার কেন্দ্রীয় কালী মন্দির, ভুবন ঠাকুরের শিব সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, শশীগঞ্জ বাজার সার্বজনীন কালী মন্দির সহ প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে রয়েছে ভক্তের পরিপূর্ণতা। নতুন শাড়ি-পাঞ্জাবিতে সেজেছে সবাই। তরুণীরা লাল-সাদা শাড়ি, কপালে টিপ, খোঁপায় ফুল। তরুণরা ধুতি-পাঞ্জাবি। শিশুদের হাতেও ছোট্ট অঞ্জলির ফুল।
পুষ্পাঞ্জলি মানেই শুধু পূজা নয়, এক আবেগ।
ভুবন ঠাকুরের শিব ও সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে আসা ভক্ত মিতু রানি দাস বলেন, সারা বছর অপেক্ষা করি এই অষ্টমীর জন্য। মায়ের কাছে একটাই চাওয়া, পরিবারের সবার মঙ্গল হোক। অঞ্জলি দিয়ে মনটা একদম ভরে গেল।
ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর ধূপের গন্ধে চারদিক ম ম করছে। অঞ্জলি শেষে একে অপরকে সিঁদুরের টিপ পরিয়ে দিচ্ছেন, চলছে সেলফি তোলার হিড়িক। বয়স্করা মন্দিরের এক কোণে বসে গল্প করছেন, কেউ প্রসাদ বিতরণে ব্যস্ত।
শশীগঞ্জ বাজার কালী মন্দিরের পুরোহিত হরপ্রসন্ন চক্রবর্তী জানালেন, মহাষ্টমীতে দেবী দুর্গার মহাগৌরী রূপের পূজা হয়। আজকের দিনে পুষ্পাঞ্জলি দিলে সব পাপ মোচন হয়, মনের সকল ইচ্ছা পূরণ হয় বলে বিশ্বাস। তাই আজ ভক্তদের ভিড় সবচেয়ে বেশি।
তজুমদ্দিন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, ১৫টি মণ্ডপেই শান্তিপূর্ণভাবে অষ্টমীর অঞ্জলি হয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় সকলের সহযোগিতায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিকেলে হবে সন্ধিপূজা, সেটিই অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণ।
ঢাকের তালে তালে, মন্ত্রের সুরে সুরে তজুমদ্দিন এখন শুধুই বলছে – বলো দুর্গা মাইকি জয়
