The BBCF Kushtita team has released the rare species of Lakshmi owl amid nature

shear

Kusti representative:

কুষ্টিয়ায় বিরল প্রজাতির ধুষর রংয়ের একটি লক্ষ্মী পেঁচা (Tyto alba) আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পরবর্তীতে সুস্থ করে প্রকৃতির খোলা আকাশে অবমুক্ত করেছে বিবিসিএফ কুষ্টিয়া টিম। জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারী) রাতে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার ইয়ামান মাউনের বাড়িতে পাখিটি আছড়ে পড়ে। ঠিকমতো উড়তে পারে না। এসময় তাকে ধরে কবুতরের খাঁচায় রাখা হয়। পরে ইয়ামান মাউন বাংলাদেশ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) কুষ্টিয়া টিমকে বিষয়টি জানালে শুক্রবার সকালের দিকে বিবিসিএফ কুষ্টিয়া টিম শহরের থানাপাড়া এলাকায় ইয়ামান মাউন এর কাছ থেকে পেঁচাটি গ্রহণ করেন। বিবিসিএফ এর পক্ষ থেকে এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি “দি ফক্স ম্যান” শাহাবউদ্দিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক “পাখি গবেষক” এস আই সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক নাব্বির আল নাফিজ, মো:রফিকুল, জোবায়ের আল নাফিজ প্রমুখ। এসময় পেঁচা টিকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে খাবার, ওষুধ এবং চিকিৎসা সেবা দিতে থাকে। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উড়তে পারাই শুক্রবার গভীর রাতে প্রকৃতির খোলা আকাশে অবমুক্ত করা হয় বিরল প্রজাতির লক্ষী প্যাঁচা টিকে। বিবিসিএফ কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি “দি ফক্স ম্যান” শাহাবউদ্দিন মিলন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে একটি বিরল প্রজাতির লক্ষী পেঁচা ছোট ভাই ইয়ামান মাউনের বাড়ির আঙিনায় আছড়ে পড়ে। এরপর ঠিকমতো উড়তে পারে না। এসময় তাকে ধরে কবুতরের খাঁচায় রাখে। পরে সকালে আমাদের বিবিসিএফ কুষ্টিয়া টিমকে বিষয়টি জানায় ইয়ামান মাউন।তাত্ক্ষণিকভাবে আমরা লক্ষ্মী পেঁচাটিকে নিয়ে এসে খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা দেয়। পরে পেঁচাটি সুস্থ হয়ে উঠলে শুক্রবার গভীর রাতে খোলা আকাশে লক্ষ্মী পেঁচাটিকে অবমুক্ত করা হয়। উদ্ধারদ্ধার হওয়া ধুষর রংয়ের পেঁচাটি এখন সচরাচার দেখা যায় না। তবে এটাকে ‘লক্ষ্মী পেঁচা’ (Tyto alba) বলা যেতে পারে । এ ব্যাপারে বিবিসিএফ কুষ্টিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক “পাখি গবেষক ” এস আই সোহেল জানান, উদ্ধারকৃত পাখিটি আসলে ধুসর রংয়ের লক্ষ্মী পেঁচা। এ ছোট পেঁচার চোখের পুরো অংশটি সাদা। ধুসর রংয়ের মাঝে কালো স্পট রয়েছে। এই জাতীয় লক্ষ্মী পেঁচা বড় বড় গাছের কোটরে থাকে। এরা বাসা বানাতে পারে না। তাই এদের কাক, বিড়াল, বেজী প্রানীর দ্বারা আক্রমণের শিকার হতে হয়। বড় বড় গাছ যেহেতু এখন কমে গেছে তাই এই লক্ষ্মী পেঁচা দেখা যায় না। আস্তে আস্তে এরা হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি থেকে। অথচ আমাদের স্বার্থে এদের বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন। এবিষয়ে বিবিসিএফ কুষ্টিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক নাব্বির আল নাফিজ জানান, শুক্রবার সকালে আমাদের টিম লিডার মিলন ভাইয়ের ফোনে খবর পাই গত রাতে একটি বিরল প্রজাতির লক্ষী পেঁচা আহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তাত্ক্ষণিক ভাইয়ের বাসায় গিয়ে আমরা আহত পেঁচা টিকে পুষ্টিকর খাবার ও ওষুধ খাওয়ায়ে সুস্থ করে শুক্রবার গভীর রাতে অবমুক্ত করে দি। আসলে হুতোম পেঁচাকে কেউ পেঁচা, কেউ ধুধু, আবার কেউ লক্ষ্মী বলে থাকে। এটিকে আসলে লক্ষ্মীপেঁচা যার বৈজ্ঞানিক নাম: Tyto alba বলা হয়ে থাকে । গ্রাম বাংলাসহ সব জায়গাতেই ‘হুতোম পেঁচা দেখা যেত। তবে মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও বিরল প্রজাতির হুতোম পেঁচা এখন বিলুপ্তির পথে। ওই প্রজাতির উদ্ধারকৃত পাখিটি বিরল প্রজাতির লক্ষ্মী পেঁচা। এরা রাতে বিচরণ করে বলে এদের নিশাচর পাখি বলা হয়ে থাকে। অনেক সম্প্রদায়ের কাছে পূঁজনীয় একটি পাখি এ পেঁচা। এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকতে পছন্দ করে। বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড়, পাখির ছানা, ইঁদুরকে এরা খাদ্য হিসাবে খেয়ে থাকে। পেঁচা সাধারণত গাছের কোটরে কিংবা দালানের ফাঁক-ফোকরে কিংবা বাঁশ ঝাড়ে বসবাস করে। বৃক্ষ নিধনের কারণে বন-জঙ্গল কমে যাওয়ায় আবার জমিতে বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার এবং শিকারের কারণে এরা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.