The expelled public pardon

shear

সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলন সামনে রেখে দলের ভিতরে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের একাট্টা চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে নেতা-কর্মীদের ওপর থেকে সব ধরনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দলটি।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর মাঝে চাঙাভাব ফিরিয়ে এনে দলকে শক্তিশালী করাই মূল উদ্দেশ্য। চলমান আন্দোলন আরও বেগবান করে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়ার আগে সব ভেদাভেদ ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব মুছে ফেলতে চান দলের হাইকমান্ড। এ জন্য সাধারণ ক্ষমার আদলে সবার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সবাইকেই দলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটা হতে পারে একযোগে গণহারে, কিংবা পর্যায়ক্রমে। যার এখতিয়ার শুধু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। দলটির নীতিনির্ধারণী মহলের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রগুলো জানায়, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোনো রকমের ক্ষোভ, বিরোধ-বিভাজন জিইয়ে রাখতে চায় না বিএনপি। সামনে চূড়ান্ত আন্দোলন কর্মসূচিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে নেওয়া হচ্ছে সব ধরনের উদ্যোগ। তারই অংশ হিসেবে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগসহ নানা কারণে ইতিপূর্বে বহিষ্কৃত প্রায় আড়াই শতাধিক নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রাজপথের এই প্রধান বিরোধী দল। প্রক্রিয়া শুরু করেছে গণহারে ক্ষমা প্রদর্শনের মাধ্যমে এসব বহিষ্কার প্রত্যাহারের। এর মধ্যে বিভিন্ন স্তরের দুই শরও বেশি নেতা নিজেদের ভুল স্বীকার করে কেন্দ্রীয় দফতরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির শূন্য পদগুলোও পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলটি। বেশ কয়েকজন সক্রিয় নেতাকে সম্প্রতি পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, বহিষ্কৃত নেতাদের অধিকাংশই দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেন। বিভিন্ন সময়ে এদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর সামনে এগোয়নি। সামনে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের বৃহত্তর স্বার্থে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য সিনিয়র নেতারা হাইকমান্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যথায় এসব নেতা আন্দোলনে সক্রিয় হতে পারছেন না। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশায় অপেক্ষমাণ অনেক নেতা আছেন, যারা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী। তাদের দলে ফিরিয়ে আনা হলে দল শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আন্দোলন আরও গতিশীল হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মূল দল ও অঙ্গসংগঠন মিলে যে দুই শতাধিক নেতা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে মূল দলসহ কৃষক দল, ছাত্রদল ও যুবদলের অনেক নেতাই দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রতিনিয়ত লোকবলসহ অংশ নিচ্ছেন।

অনেকে প্রায় প্রতিদিনই নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন কয়েক বছর ধরে পড়ে আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে প্রত্যাহার হয়নি। বহিষ্কৃতদের কেউ কেউ প্রভাবশালী নেতাদের ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছেন। এই প্রভাবশালীদের লবিং-তদবিরের কারণেই বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী ছোটখাটো ভিত্তিহীন অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে একটা বড় অংশকেই দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণেই বহিষ্কার করা হয়েছে। আবার অনেকে নিজের এলাকায় কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা কুশলাদি বিনিময়ের ছবি দেখা যাওয়ার অভিযোগেও বহিষ্কৃত হয়েছেন। নিজ দলের বহিষ্কৃত কোনো নেতার এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার অপরাধেও বহিষ্কৃত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ নাসিরের মতো শিক্ষিত উদীয়মান অনেক নেতা। বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েই তিনি প্রতিনিয়ত রাজধানী ঢাকাসহ নিজের এলাকায় কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে অসংখ্য কর্মী-সমর্থক সঙ্গে নিয়ে দলের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। তার এই ভূমিকায় সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে দেখা গেছে। স্থানীয় পর্যায়ে এমন শতাধিক নেতা রয়েছেন, যারা দলে ত্যাগী ও পরীক্ষিত। কেন্দ্রীয় দফতরের মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আবেদন করার পর অতীত অপরাধের ধরন এবং বর্তমান কর্মকাণ্ড বিচার-বিশ্লেষণ করে এ ধরনের উদীয়মান নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এসব বিষয় চিন্তা করেই দল ও আন্দোলনের বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপির হাইকমান্ড এবার সবাইকে আবারও এক কাতারে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, আগামী দিনের আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিএনপি। তাদের দলে ফিরিয়ে আনতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সর্বময় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এসব বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি বিবেচনা করলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে। স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে বহিষ্কৃত অনেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন। তাদের দলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও একমত। যা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার শুরু হবে।

জানা যায়, বিএনপির চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রথম ধাপে টানা সমাবেশ ও রোডমার্চ কর্মসূচি চলবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে অংশ নেওয়া শতাধিক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নেতা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাদের। মামলায়ও জর্জরিত। এসব নেতাকে দলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্থানীয় নেতারাও কেন্দ্রকে চাপ দিচ্ছেন। কারণ, এবার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর অধিক জোর দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ প্রসঙ্গে বলেন, দলে যারা পরীক্ষিত, কিন্তু আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো ভুল করে ফেলেছে, তারা যদি এখন সংশোধিত হয়ে আসে এতে করে দলের শক্তি ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়। এ জন্য তাদের আগ্রহের ভিত্তিতে দলের পক্ষ থেকেও বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

Related News

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.