নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকতার পথিকৃৎ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিনের ২৪তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। রোববার(২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর প্রেসক্লাব এ আয়োজন করে। প্রেসক্লাবের সভাপতি সাজ্জাদুর রহমানের সভাপত্বিতে আলোচনায় অংশ নেন লক্ষ্মীপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক কালের প্রবাহ পত্রিকার সম্পাদক কাজী মাকছুদুল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের প্রতিনিধি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ছিদ্দিক মিয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন নিরব, সৌদি আরবস্থ রামগতি-কমলনগর প্রবাসী কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ উদ্দিনসহ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ। আলোচনা শেষে সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন দারুল ফালাহ কওমী মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলা উদ্দিন। ২০১৬ সাল থেকে কমলনগর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা মোনাজাতউদ্দিনের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করে আসছে। বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকতা জগতের পথিকৃৎ ছিলেন মোনাজাতউদ্দিন। ১৯৯৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই দিনে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান এই চারণ সাংবাদিক। যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদগামী রেলওয়ের শেরেবাংলা ফেরি থেকে কালসোনার ড্রেজিং পয়েন্টের ছবি তুলতে গিয়ে আকস্মিকভাবে পানিতে পড়ে ডুবে মারা যান। ১৯৪৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রংপুর শহরের কেরাণীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন মোনাজাতউদ্দিন। উত্তর জনপদের অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান, সাহসী শ্রমনিষ্ঠ এবং নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন। ৩০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি নিজের সুখ-দুঃখের কথা ভুলে গিয়ে মানুষের কথা লিখেছেন। গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে চলেছেন সংবাদ সংগ্রহে। গ্রামীণ মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, চাওয়া-পাওয়া, অভাব-অনটন সবকিছুই তুলে নিয়ে এসেছেন। নিষ্ঠার সাথে ছেপেছেন সংবাদপত্রে। তিনি চষে বেড়িয়েছেন মাঠের পর মাঠ, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। গেছেন শেকড়ের সন্ধানে। সৃষ্টি করেছেন এক নতুন দিগন্ত। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনজীবনের সমস্যা-সম্ভাবনা ও মানবিক অনুভবের নানা দিক তিনি অণুবীক্ষণ পর্যালোচনার মাধ্যমে শক্তিশালী লেখনীতে ধারণ করেছেন। প্রতিটি প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে গ্রাম বাংলার অকৃত্রিম চিত্র।
Uncategorised
In memory of journalist Monajatuddin at Kamalnagar Press Club, prayer
