মে মাসের মাঝামাঝিতে দেশে করোনাভাইরাসের একটি পিক (চূড়া) দেখা দিতে পারে। তবে লকডাউনের সব নির্দেশনা ঠিকভাবে মানলে ভয়ের কিছু নেই। এ সময়ে অপ্রয়োজনে বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে বাসার একজন বাইরে যাবেন এবং অবশ্যই মাস্ক পরে। বাজারে বা ওষুধের দোকানে গেলেও দূরত্ব মানতে হবে। লকডাউনের এসব অবশ্য পালনীয় নির্দেশনা না মানলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সেই পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য এখন আমাদের একটাই কাজ- ‘সবাই মিলে ঘরে থাকতে হবে।’
রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এএসএম আলমগীর বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২৬ মার্চ থেকে আমরা ছুটি শুরু করেছিলাম। ছুটি মানে সবাই ঘরে থাকবেন। কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। তাহলে রোগের বিস্তার ঘটবে না, কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের (সামাজিক সংক্রমণ) মাধ্যমে রোগটি ছড়িয়ে পড়বে না। কিন্তু এক শ্রেণির লোক সেটি মানছেন না। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব নির্দেশনা না মানার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এখন আমাদের শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে সরকারি ছুটি বা লকডাউন কাজে এসেছে। এখনও আমাদের দেশে দিনে ৩০০, ৪০০, ৫০০ কেস পাওয়া যাচ্ছে। এটাকে পিক বলা যাবে না। আক্রান্তের এ লেভেল অনেক দিন ধরে রাখতে পারলে সামাজিক সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়াবে না। ফলে রোগটির বিস্তার আস্তে আস্তে কমে আসবে। তারপর যেসব স্থানে ট্রান্সমিশন কম হয়েছে সেখান থেকে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করতে হব। তবে সেই সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নেয়া হবে।
ড. আলমগীর বলেন, দেশে এখন করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ চলছে। তবে সেটি মৃদু পর্যায়ে। যে কোনো ভাবে সেটি ছাড়াতে পারে তাই সাবধান থাকতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের জন্য সপ্তাহে একদিন পরিবারের একজনই বাজারে যাবেন। অবশ্যই মাস্ক পরে যাবেন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চেষ্টা করবেন। এমনকি ওষুধের দোকানে গেলেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ অনেকের মধ্যে করোনার বিস্তার ঘটলেও সেটির কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না। তাই পাশের লোকটি আক্রান্ত কিনা বোঝার উপায় থাকবে না। এসব বিষয় মাথায় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সব নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, শুধু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। সর্বস্তরের জনসাধারণের পক্ষ থেকে এসব সাবধানতা অবলম্বন না করা হলে সরকারের একার পক্ষে করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।
