গ্রাম্য সালিসি বৈঠকে বিচারের পরিবর্তে নানা অপবাদ দেওয়ায় লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ধর্ষণের শিকার জান্নাত বেগমের (১৬) আত্মহত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. রাকিব হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ মার্চ) ভোরে কুমিল্লা জেলা শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় অভিযুক্ত হেলাল নামের অপর অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের পশ্চিম চরকলাকোপা গ্রামের সেলিনা আক্তারের মেয়ে জান্নাত বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী মো. খবিরের ছেলে মো. রাকিবের গত ছয়-সাত মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে।সম্পর্কের জের ধরে গত শনিবার (১ মার্চ) গভীর রাতে জান্নাতের বসতঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় জান্নাতের মা সেলিনা আক্তার টের পেলে রাকিব পালিয়ে যায়। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত রাকিবের পরিবারকে জানালে তারা বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। এ ছাড়া জান্নাতকে রাকিবের বউ করার আশ্বাস দেন।বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গ্রামের লোকজন ও অভিযুক্ত মো. হেলাল, মো. আজাদসহ বেশ কয়েকজন মিলে গত মঙ্গলবার সালিসি বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে মো. বাশার, জামশেদ উদ্দিনসহ অভিযুক্তরা জান্নাতকে বিভিন্ন অপবাদ দেয়। বিষয়টি মীমাংসা না করে অভিযুক্তরা উল্টো নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকে জান্নাত ও তার পরিবারকে।পরে গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সকালে জান্নাতকে বাড়িতে রেখে বাড়ির পাশে ফসলি জমি দেখতে যান তার মা সেলিনা।এ সময় হেলাল তাদের বাড়িতে গিয়ে জান্নাত ও তার মা সেলিনার চুল কেটে এলাকায় ঘুরাবে বলে হুমকি দেয়। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় জান্নাত।
পরিবারের অভিযোগ, বিচার না পাওয়া এবং নানা হুমকি ধমকি এবং অপমান সইতে না পেরে জান্নাত আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।এ ঘটনায় ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষক মো. রাকিবসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রামগতি থানায় মামলা দায়ের করেছেন জান্নাত বেগমের মা সেলিনা আক্তার।
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় রামগতি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
