A house of nomadic Milan Begum in Ramganj is located in the house.

shear

Abu Taher, Ramganj Representative:

মিলন বেগম (৪৫)। বিগত ৭বছর পূর্বে দুরারোগ্য ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেণ স্বামী আবদুর রহমান। মৃত্যুর পূর্বে সহায় সম্বল কিছু রেখে না যেতে পারলেও রেখে গেছেন ৫মেয়ে, ১ছেলে সহ ৬সন্তান। মাথা গোজার আশ্রয় না থাকায় সেই থেকেই সন্তানদের বুকে নিজ বাপের বাড়িতেই এই ঘর থেকে ওই ঘর, ওই ঘর থেকে এই ঘরে রাত যাপনের মাধ্যমে যাযাবর জীবন পার করছেন মিলন বেগম।

মঙ্গলবার (১৯নভেম্বর) সরজমিনে রামগঞ্জ পৌরসভার কলচমা ওয়ার্ডের বুদ্ধির বাজার সংলগ্ন দাস বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় যাযাবর মিলন বেগমের সংগ্রামী জীবনচিত্র। জানা যায়, বিগত ৩৫ বছর পূর্বে একই গ্রামের আবদুর রহমানের সাথে বিয়ে হয় মিলন বেগমের। এরপর গ্রামের নাত্তার কাজী বাড়িতে সংসার পাতেন তারা। এসময় তাদের কোল জুড়ে আসে মর্জিনা, আমেনা, শারমিন, শাহিনুর, ইতি এবং আরমান নামের ৬সন্তান। একপর্যায়ে স্বামী আবদুর রহমানের শরীরে ধরা পড়ে দুরারোগ্য ক্যান্সার। অতঃপর তার চিকিৎসায় খোয়াতে হয় সর্বস্ব। খোয়াতে হয় ঘরের ভিটিও। অবশেষে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আবদুর রহমান চলে যান পরপারে। নিরুপায় মিলন বেগম সেই থেকে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নেন বাবার ঠিকানা কলচমা দাস বাড়িতে। নিজের কোন ঘর না থাকায় আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে মিলন বেগম রাত পার করছেন এক ঘর থেকে আরেক ঘরে। সকাল হলেই গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ঝিয়ের কাজ করেন মেয়েরা। দিনশেষে কাজের বিনিময়ে যাই মেলে তা দিয়েই জীবন বাঁচে মিলন বেগম ও তার সন্তানদের।

আলাপকালে মিলন বেগম জানান, দাস বাড়িতেই তার বাবার রয়েছে ১০ফিট/২০ফিটের একখন্ড ভূমি। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগীতা পেলে ওই ভূমিতেই একটি ছোট্ট ঘর করতে পারেন তিনি। যে ঘরে উপযুক্ত মেয়ে সন্তানদের নিয়ে যেনো ইজ্জতের সহিত বেঁচে থাকতে পারেন।

এমন সংবাদে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি অতিসত্ত্বর রামগঞ্জের দাস বাড়িতে গিয়ে মিলন বেগমের সার্বিক পরিস্থিতি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

Related News

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.