Narsingdi killed his wife, murdered husband arrested

shear

Md. Mobarak Hossain
Narsingdi representative

নরসিংদীর মনোহরদীতে শিউলী আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূকে মোবাইলের চার্জারের ক্যাবল গলায় পেঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।  সোমবার উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ঘাতক স্বামী রুবেল রানা (৩০) মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার সাতগ্রাম গ্রামের বাহাদুর মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মা রাখি বেগম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী রুবেল রানা পলাতক ছিলেন। ঘটনার ২৪ঘন্টা না পেরোতেই জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান (পিপিএম) এর নির্দেশে ও মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল কাশেম ভুইয়া (পিপিএম) এর নেতৃত্বে মানিকগঞ্জ সদর থানা ও সাটুরিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় মঙ্গলবার ভোরে ঘাতক স্বামী রুবেল রানাকে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানাধীন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ৬ বছর পূর্বে শিউলি আক্তার জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব পাড়ি জমায়। এক সাথে কাজের সুবাদে সেখানে রুবেল রানার সাথে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। দেড় বছর আগে রুবেল রানা তার স্ত্রী শিউলিকে নিয়ে নিজ বাড়িতে আসে। সেখানে এক বছর থাকার পর ৬ মাস আগে স্ত্রী শিউলীর বাবার বাড়ি মনোহরদীতে আসেন রুবেল। শ্বশুরবাড়িতে স্থায়ীভ­াবে (ঘর জামাই) থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সম্প্রতি রুবেল রানা পুনরায় বিদেশে যাওয়ার আগ্রহের কথা স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে জানায়। তারাও তাকে বিদেশে পাঠাতে রাজি হন। বিদেশে যাওয়ার জন্য তাকে ঢাকায় ভাষা ট্রেনিং করানোর জন্যেও পাঠানো হয়। ট্রেনিং পরবর্তী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে তার বিদেশ যাওয়া ভেস্তে যায় এবং সে শ্বশুর বাড়িতে চলে আসে।

এক পর্যায়ে রুবেল বিদেশ যেতে না পারার জন্য স্ত্রী শিউলি আক্তার ও তার পরিবারের লোকজনকে দোষারোপ করতে শুরু করে। এ বিষয়টি নিয়ে তাদের  মাঝে প্রায়ই ঝগড়াও হত। ঘটনার দিন সোমবার সকালে নিহতের বাড়ীতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মোবাইলের চার্জারের ক্যাবল দিয়ে গলায় পেচিয়ে স্বাসরোদ্ধ করে শিউলী আক্তারকে হত্যা করে পালিয়ে যায় স্বামী রুবেল রানা।
এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো.আবুল কাশেম ভূঁইয়া (পিপিএম) বলেন, এই ঘটনায়  নিহতের মা রাখি বেগম  বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার ২৪ঘন্টা না পেরোতেই আমরা আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তারপর গ্রেফতারকৃত আসামী রুবেল রানাকে আদালতে প্রেরণ করার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে আদালত আসামীকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২৪ ঘন্টা পূর্বেই ঘাতক স্বামী রুবেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা পুলিশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

Related News

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.