5 years without office, but the authorities do not know that they are raising their salary and allowances

shear

Rajshahi Reporter: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পুরকৌশল বিভাগে জুনিয়র সেকশন অফিসার মো. আব্দুল ওয়াহেদ খান (টিটু)। ২৪ জুলাই ২০১৭ সালে রুয়েটে যোগদানের পর বছর খানেক গাঁছাড়া দিয়ে অফিস করলেও ২০১৮ সাল থেকে রুয়েটে একেবারেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। টানা পাঁচ বছর অফিসে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত তুলছেন বেতন-ভাতা; পেয়েছেন ইনক্রিমেন্ট। টিটুর এমন স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি রুয়েট কর্তৃপক্ষের আমলে থাকা সত্ত্বেও পাঁচ বছরে নেননি কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

নথি ঘেঁটে জানা গেছে, টিটু যোগদানের পর রুয়েটে অবস্থিত রূপালি ব্যাংক করপোরেট শাখায় ৩১ জুলাই ২০১৭ সালে ৩৭২৩০১০০১৩৪৪০ নম্বরের একটি সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর খোলেন। ওই হিসাব নম্বরে আগস্ট ২০১৭ সাল থেকে আগস্ট ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রেরণ করেছে রুয়েট কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ওই হিসাব নম্বরে ৩০ হাজার ৫৩ টাকা ৫০ পঁয়সা বেতন জমা হয়েছে। অন্যদিকে রাসিক সূত্রে জানা গেছে, টিটু ডেপুটেশনের কোন প্রকার তথ্য রাসিকে নেই। এমনকি এপিএস-দের বেতন তালিকাতেও তার নাম নেই। টিটুর অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সমস্ত তথ্য ও প্রমাণাদি রয়েছে সময়ের আলো প্রতিবেদকের হাতে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালে আব্দুল ওয়াহেদ খান টিটু রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহব্বায়ক ছিলেন। পরে ২০১৩ সালে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদকে পদস্থ হন। রুয়েট সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রাজশাহীর প্রভাবশালী এক নেতার ডিও ও জোর সুপারিশে রুয়েটে চাকরি হয় টিটুর। রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক প্রভাব ও পরিচিতি থাকার কারণে চাকরি পাবার পরও ঠিকমতো অফিসে আসতেন না তিনি। তার প্রভাব-প্রতিপত্তির ভয়ে রুয়েটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও খুলতেন না মুখ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২০১৮ সালে রাজনৈতিক তদবিরে কোন প্রকার অফিস আদেশ ছাড়াই (ডেপুটেশন/ছুটি) রুয়েট ছেড়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মেয়রের এপিএস হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর থেকেই রুয়েটে নিখোঁজ টিটু।

তবে ২০১৮ সালে অফিসে অনিয়মিত থাকায় তৎকালীন রুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নিয়ামুল বারী তাকে এসিআর দেননি। এনিয়ে বেগ পেতে হয় বিভাগীয় প্রধান নিয়ামুল বারীকেও। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও তৎকালীন রুয়েট কর্তৃপক্ষের অনৈতিক চাপের মুখে মাত্র ছ’মাসের মাথায় ছাড়তে হয় বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব। বর্তমানে তিনি পুরকৌশল বিভাগে ডীনের দায়িত্বে রয়েছেন। এরপর দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান-১ (রিপন)। টিটু অফিসে অনুপস্থিত থাকার পরও বিভাগীয় প্রধান কামরুজ্জামান রিপন তাকে ২০১৯ সালে এসিআর প্রদান করেন। ২০২০ সালে একই কান্ডের অংশীদার হন পরের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান-২ (নয়ন)। তবে সম্প্রতি (২০২২ সালে) দায়িত্বে নিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদ সাজ্জাদ টিটুর অনুপস্থিতির কারণে তাকে আর কোন এসিআর প্রদান করেননি।

আব্দুল ওয়াহেদ টিটু কোথায় আছে? জানতে চাইলে পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদ সাজ্জাদ বলেন, ‘সে কোথায় বা তার অবস্থান কি; আসলে আমি এটা সঠিক জানি না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে দেখিনি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন নাকি অন্য কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাইরে আছেন এই বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরা জানেন।’ বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তার খোঁজ নেওয়ার কখনো কি চেষ্টা করেছেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করিনি। তবে আমি ভেবেছি তিনি বা অন্যরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আছেন, অফিসের প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বাইরে আছেন। তাই খোঁজ নেয়নি। তবে যেহেতু আমি জানতাম না তিনি কোন ডেপুটেশন বা অনুমতি ছাড়াই দপ্তরে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত আছেন; সেহেতু আমি আজই (৪ সেপ্টেম্বর) এ ব্যাপারে রেজিস্টারের কাছে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়ার জন্য একটি চিঠি ইস্যু করবো।’ তবে অফিসে তাকে না দেখায় তিনি কোন এসিআর দেননি বলেও জানান পুরকৌশল বিভাগীয় প্রধান মাহমুদ সাজ্জাদ।

টিটুকে এসিআর দেবার ব্যাপারে তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান-১ (রিপন) বলেন, ‘আমি টিটুকে একমাসের মতো পেয়েছিলাম। তারপর একটা কমিটির মাধ্যমে তাকে ডেপুটেশন দেবার জন্য সংস্থাপন দপ্তরে একটি চিঠি প্রদান করা হয়। কিন্তু ফিরতি চিঠি আমি পায়নি আর ওইভাবে খোঁজও নেয়নি। পরে এসিআরের জন্য টিটু আবেদন করলে তাকে সেটি প্রদান করি।’ অন্যদিকে, টিটুর ব্যাপারে জানতে পুরকৌশল বিভাগের পরবর্তী সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান-২ (নয়ন) এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও না পাওয়ায় তার মন্তব্য মেলেনি।

জুনিয়র সেকশন অফিসার টিটুর দাবি, ‘ডেপুটেশনের জন্য সিটি করপোরেশন থেকে রুয়েটে আমার চিঠি গেছে। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট সভায় প্রেষণে আসার বিষয়টি অনুমোদন হয়েছে। অনুমোদনের পরে আমি এখানে। তবে অনুমোদনের কপি আমার কাছে নাই, সেগুলো খুঁজতে হবে।’

এদিকে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম শরীফ উদ্দিন, ‘এটি মেয়র মহোদয়ের ব্যক্তিগত বিষয়। এটার সাথে অফিসের কোন সম্পর্ক নাই। তিনি (টিটু) ডেপুটেশনেও নাই।’

বাংলাদেশ গেজেটের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি বিধি-২০১৯ মোতাবেক, ‘চাকরি স্থায়ী না হলে কোনো কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে না’। পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ থেকেও বেতন-ভাতা পাওয়ার বিষয়ে কম্পট্রোলার নাজিমউদ্দীন আহম্মদ বলেন, ‘আমি যদি জানতাম প্রথমেই তার বেতন বন্ধ করে দিতাম। কিন্তু আমার এসব জানা নেই। এগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জানাবে তারপর আমি পদক্ষেপ নিতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি কোন সরকারি কিংবা বেসরকারি জায়গায় যেতে চাইলে তাকে অবশ্যই ডেপুটেশন নিয়ে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে তিনি এক জায়গা থেকে বেতন-ভাতা পাবেন। আর এটা যদি না করেই তার দপ্তরে অনুপস্থিত থাকে তবে তার বেতন বন্ধ হয়ে যাবে।’ দীর্ঘ পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকার ঘটনায় তার কাছে থেকে বেতন ফেরত নেওয়া হবে কি-না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ভিসি এবং রেজিস্টার দপ্তর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এব্যাপারে আমি জানি না।’

সদ্য ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টারের দায়িত্ব নিয়েছেন আরিফ আহমেদ চৌধুরী। সময়ের আলো প্রতিবেদকের কাছে তিনি স্বীকার করেন পুরকৌশল বিভগের জুনিয়র সেকশন অফিসার আব্দুল ওয়াহেদ টিটু কোন প্রকার ডেপুটেশন নেওয়ার আবেদন করেননি। এমন কোন পত্র তাঁর ফাইলে নেই। তিনি বলেন, ‘যে কোন দপ্তর বা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশে যাক কিংবা ছুটিতে যাক বা কাজে না কেনো; তারা তাদের নিজের ডিপার্টমেন্টের কাছে থেকে আমাদের রেজিস্টার দপ্তরে চিঠি পাঠাবে। তার প্রেক্ষিতে আমরা অর্ডার করি এবং সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট বা দপ্তর প্রধানের কাছে পাঠাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি তাই আমার চেয়ে ভালো বলতে পারবেন পূর্বের রেজিস্টার প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেন। আপনারা তাকেই জিজ্ঞাসা করতে পারেন।’

জানতে চাইলে তদকালীন রেজিস্টার সেলিম হোসেন বলেন, ‘আমার সময়ে আব্দুল ওয়াহেদ টিটুর কোন ডেপুটেশনের আবেদন পায়নি। যেহেতু এই বিষয়টি এতোদিন পর জানা গেছে সেহেতু এই ফাইলটি বিভাগীয় প্রধানের কাছে পাঠানো হবে এবং তার (বিভাগীয় প্রধানের কাছে) জানতে চাওয়া হবে ওই কর্মকর্তা কোথায়। তখন তিনি ওই ফাইলে একটি চিঠিতে লিখে দিবেন। তখন আমরা আইন অনুসারে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ পাঁচ বছর আগে আইন কাজ করলো না, এখন আইন কাজ করছে কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে তিনি খাতা-কলমে আছেন, বাস্তবে নেই। আর ডিপার্টমেন্ট থেকেও আমরা এবিষয়ে কোন আপত্তি পায়নি, তাই। তবে এখন এ বিষয়টি নিয়ে ‘পিলো-পাস’ করার কোন সুযোগ নেই। কারণ, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন কিনা তা তার ফাইলপত্র ও কাজকর্ম অনুসন্ধান করে যাচাই করা হবে। এরপর আইন অনুসারে কাজ হবে।’

এ বিষয়ে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি তো আসছি মাত্র ১৬ দিন হয়েছে। কেউ কোন অনিয়ম করলে তার ‘কনসিকুয়েন্স’ পেতে হবে। আর যারা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্টের ক্ষতি যারা করবে, যারা অনিয়ম দুর্নীতি করবে; তারা কেউ-ই রেহাই পাবে না।’

Related News

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.