The market has lost importance in the budget

shear

টানা মন্দা ও সংকটে শেয়ারবাজার। কোনো উদ্যোগেই তেমন গতি আসছে না। বছরের বেশিরভাগ সময়ই লেনদেনে খরা।

এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের ভরসা ছিল বাজেট। নির্বাচনি বছরে সরকার বিনিয়োগকারীদের কথা মাথায় রাখবে। কিন্তু না। টানা কয়েক বছরের মতো এবারো বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াবে, এমন কোনো পদক্ষেপ আসেনি।

এবারের বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য সুনির্দিষ্ট একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডের বিভিন্ন কর কমানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এটি আগামী ৪ তারিখ অর্থবিলে আসবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। সেখানেও হতাশা। এ হিসাবে শেয়ারবাজারে কোনো কিছুই দেওয়া হয়নি। করপোরেট করসহ বাজারের আগের সব কর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগের অর্থবছরে কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার ছেড়েছে, এমন কোম্পানিগুলোকে আড়াই শতাংশ ছাড় দিয়ে মুনাফার ২০ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত বাজেটেও একই নিয়ম থাকছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহারও অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের মতোই এসব কোম্পানিকে সাড়ে ৩৭ শতাংশ কর দিতে হবে। মার্চেন্ট ব্যাংককেও একই হারে কর দিতে হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল শেয়ারবাজারের বিনিয়োগে অবাধে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। কিন্তু সেটি একেবারেই বিবেচনায় নেয়নি।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় শেয়ারবাজারকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে ইতোমধ্যে বাজেটে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ট্রেজারি বন্ড, সুকুক, ডেরিভেটিভ, এসএমই ও এটিবি বোর্ড চালু করা, ইটিএফ চালু করা, ওপেন ইন্ড মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত করা, পুঁজিবাজারের সহায়ক ইকোসিস্টেম ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় পুঁজিবাজার সম্পর্কে কিছু উলে­খ করেননি। তিনি বিভিন্ন ধরনের যে কর কাঠামোর প্রস্তাব করেছেন, তাতেও পুঁজিবাজারের জন্য কোনো ছাড় রাখা হয়নি। বর্তমানে কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার ছেড়েছে, এমন কোম্পানিগুলোর আয়করের হার ২০ শতাংশ। তবে এর জন্য পরিপালন করতে হয় কিছু শর্ত। এগুলো হচ্ছে- কোম্পানির সব ধরনের আয় ও প্রাপ্তি, ব্যয় এবং বিনিয়োগ আনুষ্ঠানিক মাধ্যম তথা ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন। এই শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে কর দিতে হয় ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

অন্যদিকে ১০ শতাংশের কম শেয়ার ছেড়েছে, এমন কোম্পানিগুলোর আয়করের হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে কর দিতে হয় ২৫ শতাংশ।

এদিকে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরাও প্রকাশ্যে কোনো কথা বলতে নারাজ। তারা বলছেন, নতুন করে বাজারে কোনো কর আরোপ করা হয়নি সান্ত্বনা এটিই।

Related News

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.