Agent Bank and Bangladesh

shear

 Firoz Hossain Fine (Jutpurhat Representative)

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অনুমোদিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা এজেন্ট ব্যাংক। বর্তমান সরকার ব্যাংকিং সেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে দেয়ার জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং এর সৃষ্টি করেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে ব্যাংক। একটি ব্যাংক ব্যাংকিং সেবা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রডাক্ট এর মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুসারেই এজেন্ট ব্যাংক পরিচালিত হয়ে থাকে। কৃষক এবং ছাত্রদেরকেও ব্যাংকিং সেবার জন্য স্পেশালভাবে অতিসহজেই ১০ টাকা এবং ১০০ টাকার বিনিময়ে একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা রয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায়। এজেন্ট ব্যাংকিং এ গ্রাহক আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে ব্যাংকিং এর সকল সেবা নিতে পারেন। একজন গ্রাহক অতি সহজেই নিজ এলাকার এজেন্ট ব্যাংক থেকে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারেন। ব্যাংকিং ব্যবস্থা গ্রামের মানুষের কাছে পৌছে দিতেই এজেন্ট ব্যাংকিং এর সৃষ্টি। সাধারণত এজেন্ট ব্যাংকিং এ এজেন্টের নিয়োগকৃত কর্মকর্তা ও এবং ব্যাংক কর্তৃক একজন অফিসার দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। ব্যাংক কর্তৃক নিয়োগকৃত কর্মকর্তা ব্যাংকের নিয়ম-কানুন অনুসারে এজেন্ট পরিচালনা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকরে থকেন।

ব্যাংক সাধারণত স্থানীয় কোন সুমানধন্য ব্যবসায়ী কিংবা জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থা কিংবা এনজিও প্রতিষ্ঠানকে এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ প্রদানকরে থাকে। ব্রাজিল কে এজেন্ট ব্যাংকের পায়নিয়ার বলা হয়। এছাড়া কলম্বিয়া, পেরু,মালয়েশিয়া, কেনিয়া, ইন্ডিয়া, পাকিস্থান, ফিলিপাইন এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বৈল্পবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর প্রাথমিক গাইডলাইন ইস্যু করে। ২০১৪ সালের জানুয়ারীতে ব্যাংক এশিয়া প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করে। ২০১৬-২০২০ পর্যন্ত ৭৭.৬৮% হারে এজেন্ট ব্যাংক বৃদ্ধি পেয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিং এর গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে ২০২১ সালে। ২৭ টি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ৯ টি এজেন্ট ব্যাংকক্ষুদ্র ও মাঝারী লোন সেবা দিয়ে থাকে। এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স এসেছে যা ভবিষ্যতে আরোবৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। এজেন্ট ব্যাংকিং এর সংখ্যা বৃদ্ধির দিক দিয়ে প্রথম সারীর ব্যাংগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ডাস্ট বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া, আল –আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড কর্মারসিয়াল ব্যাংক পি.এল.সি ও অনান্য ব্যাংক।

 

বাংলাদেশের ভবিষ্যতে আরো বেশীসংখ্যক এজেন্ট ব্যাংকবৃদ্ধি পাবে বলে ব্যাংক প্রতিনিধিরা মনে করছেন। বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং এর ফলে সবচেয়ে বেশী সুবিধা ভোগ করছেন রেমিটেন্স গ্রাহকরা। তবে এজেন্ট ব্যাংকের গ্রাহকদেও চাহিদা প্রতিটি এজেন্ট ব্যাংকে যদি ক্ষুদ্র ও মাঝারী ঋনের সুবিধা প্রদান করা হত তাহলে গ্রামের ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা তাদেও ব্যবসার উন্নতি করতে পারতেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার শহরের সুবিধা গ্রামে দেয়ার অন্যতম পদক্ষেপ এজেন্ট ব্যাংক। অনেক দূওে গিয়ে যাদেও ব্যাংকিং সেবা নিতে কষ্ঠ হয় তাদের জন্য এজেন্ট ব্যাংক অনেক সুবিধা নিয়ে তাদের গ্রামে চলে এসেছে। একজনগ্রাহক এজেন্ট ব্যাংক থেকে যে সকল সেবা গ্রহণ করতে পারেন তাহলো- সেভিংস একাউন্ট, কারেন্ট একাউন্ট, এস.এন.ডি একাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট, ডিপিএস, বিদ্যুৎবিল, বৈদ্যুশিক রেমিটেন্স এর অর্থ প্রদান, ক্ষুদ্র ও মাঝারী ঋণ প্রদান, নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলন, অর্থ স্থানান্তর, ইন্টারনেট ও এসএমএস ব্যাংকিং, ইন্সুরেন্স পলিসির প্রিমিয়াম গ্রহণ, স্কুল ব্যাংকিং, ক্রেডিটকার্ড ও চেক প্রদান, বিবিধ সেবাসমূহ।

No widgets found. Go to Widget page and add the widget in Offcanvas Sidebar Widget Area.