লক্ষ্মীপুর : ২০১৬ সালে লক্ষ্মীপুর সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ শাখার ১৭ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। পুর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য একাধিক বার বললেও গুরুত্ব দিচ্ছি না জেলা সভাপতি ও সম্পাদক।। অবশেষে জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে নীজে পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন লক্ষ্মীপুর সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ শাহীন আলম।
সোমবার (৩১ মে) সকালে নিজের ফেসবুকে ওয়ালে ওই দরখাস্তের কপি তিনি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি আল-নাহিয়ান খাঁন জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য দাদার কাছে লিখত আকারে এই অভিযোগটি সরাসরি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে জমা দিয়েছি। আমার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আশা রাখি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমাকে অব্যাহতি দিবে।।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ শাহীন আলম জানান, ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল এক বছরের জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটি গঠন করা হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন বছর হতে চললেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি তারা। সদর উপজেলার ৯ সদস্যের আহবায় কমিটি করলেও ৬ বছর পার করছে। দেড় বছর আগে চন্দ্রগঞ্জ থানা ও কমলনগর উপজেলা কমিটি করার লক্ষে সম্মেলন করেও তা স্থগিত রয়েছে। জেলার ৫৮ ইউপির প্রায়টিতে কমিটি নেই। লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আহবায়ক কমিটিও দুই বছর ধরে চলমান। ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিও ৫/৬ বছর নেই। জেলা টেকনিক্যাল কলেজ শাখা কমিটি ২০১৬ সালে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি করে দেয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য একাধিকবার জেলা সভাপতি ও সম্পাদককে অনুরোধ করি। কিন্তু তার দু’জনই অবহেলা করে। তাই জেলা আ’লীগ নেতাসহ শুক্রবার (২৮ মে) কেন্দ্রীয় সভাপতি ও রোববার (৩০ মে) সাধারন সম্পাদকের কাছে আমার পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে তার দরখাস্ত তাদের কাজে স্ব-শরীরে জমা দিয়েছি। এছাড়াও জেলা সভাপতির বয়সও ৩৫ বছরের উপরে। সে সারাক্ষন ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ব্যাস্থ থাকে। তার প্রতিষ্ঠানের নাম সাহিদা এন্টারপ্রাইজ। বর্তমানে তিন কোটি টাকার কাজ চলমান। এঅবস্থায় জেলা ছাত্রলীগ গ্রুপিং, অভ্যন্তরিন কোন্দল, সহ টেন্ডার বানিজ্যসহ নানাধরনের কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শাহিন আলম আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রমে তৃণমূল নেতা কর্মীরা বিরক্ত। আমার কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার অনুরোধ করলে তারা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির কথা বলেও তাঁদের কাছে কোন প্রকার সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের কর্মীদের সাথে তাঁদের আচার আচারণ খুবই নিকৃষ্ট বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি একজন বয়ষ্কবৃদ্ধ লোক যিনি প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার, সংগঠনকে নেতৃত্বহীন করে দিয়ে, সংগঠনের পিছনে সময় না দিয়ে ইট, বালু, রড, সিমেন্টের পিছনে সময় ব্যয় করছেন বর্তমানে প্রায় কোটি কোটি টাকার কাজ উনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাহেদা এন্টারপ্রাইজের নামে চলমান। এবিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শরিফ ও সাধারন সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশান ফোন রিসিভ করেননি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাক লেখক ভট্রাচার্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
